Breaking

Sunday, October 25, 2026

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

যারা TIN সার্টিফিকেট করে বিপদে আছেন ভাবতেছেন তাদের জন্য। মমনোযোগ নিয়ে পড়ে পোস্ট শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিবেন। 
আয়কর রিটার্ন (জিরো রিটার্ন বা শূন্য রিটার্ন) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

ধরুন, ২ বছর ধরে রিটার্ন জমা না দেওয়া হয়ে থাকলে, এখনই আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি দ্রুত আইনি উপায়ে সমাধান করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার জন্য এখন ৩টি ধাপে করণীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. বকেয়া রিটার্নগুলো তৈরি করুন:
আপনাকে বিগত যে ২ বছরের রিটার্ন বাদ পড়েছে, সেই দুই বছরের জন্য আলাদা আলাদা দুটি রিটার্ন ফরম (যেমন করবর্ষ ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫) পূরণ করতে হবে।
আপনার আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচে হয়ে থাকে, তবে প্রতি বছরের জন্য 'জিরো রিটার্ন' বা শূন্য রিটার্ন ফরম পূরণ করবেন।

২. উপ-কর কমিশনার (DCT) বরাবর মওকুফের আবেদন:
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে জরিমানার বিধান থাকলেও, যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণে (যেমন: অসুস্থতা, প্রবাসে থাকা, বা আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা) দেরি হলে জরিমানা মওকুফ বা শিথিল করার সুযোগ আছে。
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আপনার সংশ্লিষ্ট সার্কেলের উপ-কর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes) বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিন।
আবেদনপত্রে বিগত ২ বছর রিটার্ন দিতে না পারার সঠিক ও যৌক্তিক কারণটি উল্লেখ করুন। সাধারণত জিরো রিটার্ন এবং যৌক্তিক কারণ থাকলে কর কর্মকর্তারা জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন গ্রহণ করে থাকেন।

৩. অনলাইনে বা সরাসরি কর সার্কেলে জমা দিন
আপনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-Return Portal ব্যবহার করে অনলাইনে নিজেই বকেয়া এবং চলতি বছরের রিটার্ন দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
যদি অনলাইন পোর্টালে বিগত বছরের (বকেয়া) রিটার্ন সাবমিট করতে কোনো জটিলতা হয়, তবে সরাসরি আপনার টিন (TIN) সার্টিফিকেটে উল্লিখিত কর সার্কেল অফিসে গিয়ে বকেয়া ২ বছরের পেপার রিটার্ন এবং মওকুফ আবেদনপত্রটি একসাথে জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংগ্রহ করুন।
আয় না থাকলেও ২ বছর রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে আইনি জটিলতা এড়াতে আপনার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যেহেতু আপনার কোনো আয় নেই, তাই আপনার ট্যাক্স বা করের পরিমাণ আসবে শূন্য (০) টাকা। এই অবস্থাকে জিরো রিটার্ন (Zero Return) বলা হয়।
আপনার জন্য দ্রুত ও সহজ সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১. জিরো রিটার্ন ফরম পূরণ করুন
বিগত ২ বছরের জন্য আপনাকে আলাদা আলাদা দুটি ফরম পূরণ করতে হবে। যেহেতু আপনার কোনো আয় নেই, তাই ফরমে:
আয়ের উৎস এবং বার্ষিক আয়ের ঘরগুলোতে "০" (শূন্য) বা "Nil" লিখবেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী (যদি প্রযোজ্য হয়) অত্যন্ত সাধারণ ও বাস্তবসম্মতভাবে দেখাবেন (যেমন: পরিবার থেকে পাওয়া হাতখরচ বা উপহার)।

২. অনলাইন বা সরাসরি সার্কেলে জমা দিন:,
অনলাইনে: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিশিয়াল e-Return Portal-এ আপনার ১২ ডিজিটের TIN দিয়ে সাইন-ইন করুন। সেখানে খুব সহজেই মাত্র কয়েক মিনিটে জিরো রিটার্ন সাবমিট করা যায়।
সরাসরি অফিসে: অনলাইন পোর্টালে যদি বকেয়া বছরের অপশন না পান, তবে আপনার TIN সার্টিফিকেটের নিচে যে কর সার্কেল (Tax Circle) এবং কর অঞ্চল (Tax Zone)-এর নাম লেখা আছে, সেখানে সরাসরি চলে যান।

৩. জরিমানা মওকুফের লিখিত আবেদন (জরুরি):
সরাসরি অফিসে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কর সার্কেলের উপ-কর কমিশনার (DCT) বরাবর একটি সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখবেন।
দরখাস্তের বিষয় লিখবেন: "বকেয়া আয়কর রিটার্ন গ্রহণ এবং জরিমানা মওকুফের আবেদন।"
বিবরণীতে স্পষ্ট করে লিখবেন যে, আপনি একজন ছাত্র/বেকার/গৃহিণী এবং আপনার কোনো আয়ের উৎস নেই। আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এবং কোনো আয় না থাকায় বিগত ২ বছর রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাধারণত কোনো আয় না থাকলে এবং নম্রভাবে ভুল স্বীকার করে আবেদন করলে কর কর্মকর্তারা কোনো জরিমানা ছাড়াই বকেয়া রিটার্ন গ্রহণ করে নেন।

দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: TIN বাতিল করা:

আপনার যদি ভবিষ্যতে ব্যবসা, ক্রেডিট কার্ড বা বড় কোনো নাগরিক সেবার প্রয়োজন না পড়ে, এবং কোনো আয় না থাকে, তবে প্রতি বছর এই রিটার্ন দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে আপনি TIN সার্টিফিকেটটি বাতিল (Cancel) করার জন্য আবেদন করতে পারেন।
এর জন্য আপনার সার্কেল অফিসে বকেয়া রিটার্নগুলো পরিচ্ছন্ন করার পর, উপ-কর কমিশনার বরাবর TIN বাতিলের একটি লিখিত আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তারা তদন্ত করে আপনার কোনো করযোগ্য আয় না পেলে TIN টি নিষ্ক্রিয় করে দেবে।
আপনার বকেয়া রিটার্ন দুটি কি আপনি অনলাইনে e-Return পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করতে চান, নাকি সরাসরি ট্যাক্স অফিসে গিয়ে জমা দিতে সুবিধা হবে? জানালে আমি আপনাকে মওকুফ আবেদনের একটি খসড়া (Format) লিখে দিতে পারি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখুন: অনলাইন পোর্টালে (e-Return) সাধারণত শুধুমাত্র বর্তমান চলতি করবর্ষের (Assessment Year 2026-27) রিটার্ন সাবমিট করা যায়, বিগত ২ বছরের বকেয়া রিটার্নগুলো অনলাইন সিস্টেমে সরাসরি সাবমিট করার সুযোগ নাই।
তাই আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে এটি:

ধাপ ১: প্রথমে চলতি বছরের রিটার্নটি অনলাইনে দিন

আপনি এই বছরের রিটার্নটি এখনই অনলাইনে ফ্রিতে দিয়ে দিতে পারেন। নিচে নিয়ম দেওয়া হলো:
1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-Return Portal-এ যান.
2. আপনার ১২ ডিজিটের TIN এবং আপনার NID দিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফাইড করা মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন-ইন/রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন.
3. লগইন করার পর বাম পাশের মেনু থেকে Return Submission-এ ক্লিক করুন.
4. Assessment Information পেজে গিয়ে:
 • Assessment Year: ২০২৬-২০২৭ সিলেক্ট করুন.
 • Any Taxable Income: "No" সিলেক্ট করুন (যেহেতু কোনো আয় নেই).
 • Any Assets Outside Bangladesh / Motor Car: আপনার এগুলো না থাকলে "No" সিলেক্ট করুন.
5. এরপর পরের ধাপে আয়ের সব উৎস "০" (শূন্য) বা "Nil" দেখাবে।
6. Assets & Liabilities ট্যাবে আপনার যদি কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা বড় সম্পদ না থাকে, তবে তা টিক চিহ্ন তুলে দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারেন অথবা সাধারণ বিবরণী দিতে পারেন।
7. সবশেষে Tax Computation পেজে আপনার প্রদেয় কর (Payable Tax) দেখাবে "০" টাকা.
8. সব তথ্য মিলিয়ে নিয়ে Submit Return বাটনে ক্লিক করুন। সাথে সাথে আপনার Acknowledgement Slip (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেট জেনারেট হবে, যা আপনি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নেবেন.

ধাপ ২: বকেয়া ২ বছরের জন্য যা করবেন

চলতি বছরের রিটার্ন অনলাইনে দেওয়ার পর, বিগত ২ বছরের বকেয়া রিটার্নগুলো অনলাইনে জমার অপশন না থাকলে আপনাকে কাগজের ফরমে পূরণ করতে হবে।
যেহেতু আপনার কোনো আয় নেই, তাই আপনি আপনার কর সার্কেল অফিসে সরাসরি গিয়ে নিচে দেওয়া মওকুফ আবেদনের খসড়াটি সহ পেপার রিটার্ন জমা দিয়ে আসবেন।
আপনার সুবিধার্থে উপ-কর কমিশনার বরাবর জরিমানা মওকুফের একটি বাংলা দরখাস্তের ফরম্যাট নিচে দেওয়া হলো:

আবেদন ফরম :

তারিখ: .......................

বরাবর,
উপ-কর কমিশনার
কর সার্কেল- ........, কর অঞ্চল- ........ (আপনার TIN সার্টিফিকেটে যা লেখা আছে তা লিখবেন)
বিষয়: বকেয়া আয়কর রিটার্ন গ্রহণ এবং জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন।

মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী একজন e-TINধারী করদাতা (TIN নম্বর: .........................)। আমি বর্তমানে একজন ছাত্র/বেকার/গৃহিণী (যেটি প্রযোজ্য)। বিগত ২ বছরে আমার কোনো প্রকার করযোগ্য আয় বা আয়ের উৎস ছিল না। 

আয়কর আইন সম্পর্কে অসচেতনতা এবং কোনো আয় না থাকার কারণে বিগত করবর্ষগুলোতে আমি যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারিনি। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল। উল্লেখ্য যে, আমি চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষের জিরো রিটার্নটি ইতিমধ্যেই অনলাইনে সফলভাবে দাখিল করেছি (অনলাইন কপি সংযুক্ত)। 

অতএব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আমার বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে এবং কোনো করযোগ্য আয় না থাকার বিষয়টি আমলে নিয়ে, বিগত ২ বছরের বকেয়া রিটার্নসমূহ কোনো প্রকার জরিমানা ব্যতীত গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।

বিনীত,

(আপনার স্বাক্ষর)
নাম: ....................................
TIN নম্বর: ............................
মোবাইল নম্বর: ......................

আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রথমে e-Return Portal-এ ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করে দেখুন চলতি বছরের রিটার্নটি সাবমিট করবেন।

অনলাইনে ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন না হওয়ার কারণ:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অনলাইন e-Return Portal-এ শুধুমাত্র বর্তমান চলতি করবর্ষের রিটার্নই সরাসরি জমা নেওয়া হয়। সময় পার হয়ে যাওয়া বকেয়া বা বিগত বছরগুলোর রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে সাবমিট করার সুযোগ সফটওয়্যারে থাকে না।
বিগত ২ বছরের বকেয়া রিটার্ন সম্পন্ন করতে আপনাকে এখন নিচের সহজ নিয়মটি অনুসরণ করতে হবে:

করণীয়: ম্যানুয়াল বা পেপার রিটার্ন জমা দেওয়া

১. ফরম সংগ্রহ করুন: এনবিআর-এর ওয়েবসাইট থেকে অথবা যেকোনো স্টেশনারি দোকান বা কর অফিস থেকে এক পাতার (সবচেয়ে সহজ ফরম) বা স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয়কর রিটার্ন ফরমের দুটি কপি সংগ্রহ করুন।
২. তথ্য পূরণ করুন: ফরম দুটিতে আপনার নাম ও TIN নম্বর লিখবেন। যেহেতু আপনার কোনো আয় নেই, তাই ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ উভয় বছরের ফরমেই আয়ের ঘরগুলোতে "০" (শূন্য) বা "Nil" লিখে দিন।
৩. মওকুফ আবেদনপত্র সংযুক্ত করুন: এর আগের ধাপে আমি আপনাকে যে জরিমানা মওকুফের লিখিত আবেদনের খসড়া লিখে দিয়েছিলাম, সেটি একটি সাদা কাগজে লিখে নিন। সেখানে উল্লেখ করবেন যে আপনার কোনো আয় ছিল না এবং আপনি ইতিমধ্যেই ২০২৬-২৭ করবর্ষের রিটার্ন অনলাইনে সফলভাবে জমা দিয়েছেন (অনলাইন প্রাপ্তি স্বীকারপত্রটি আবেদনের সাথে গেঁথে দেবেন)।
৪. ট্যাক্স সার্কেলে জমা দিন: আপনার TIN সার্টিফিকেটের নিচে যে কর সার্কেল (Tax Circle) এবং কর অঞ্চল (Tax Zone) লেখা আছে, সেখানে সরাসরি চলে যান। কর সার্কেলের দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে বিগত ২ বছরের পেপার রিটার্ন এবং মওকুফ আবেদনপত্রটি একসাথে জমা দিন।
কর্মকর্তারা আপনার কাগজপত্র যাচাই করে এবং আপনার কোনো আয় না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে (কোনো জরিমানা ছাড়াই) বকেয়া রিটার্ন দুটি গ্রহণ করবেন এবং আপনাকে একটি রিসিভ কপি (Acknowledgement) সিল মেরে ফেরত দেবেন। সেটি যত্ন করে রেখে দিলেই আপনার বিগত ২ বছরের আইনি জটিলতা সম্পূর্ণভাবে মিটে যাবে।

ফরম ডাউনলোড করার পর আপনার পরবর্তী কাজ:

• প্রিন্ট এবং ফটোকপি: ডাউনলোড করা পিডিএফ ফাইলটি যেকোনো কম্পিউটার দোকান থেকে প্রিন্ট করে নেবেন। যেহেতু ২ বছরের বকেয়া রিটার্ন বাকি, তাই ফরমটির ২টি কপি প্রিন্ট বা ফটোকপি করে নেবেন (১টি ২০২৪-২৫ করবর্ষ এবং অন্যটি ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য)।
• পূরণ করার নিয়ম: ফরমে আপনার নাম, TIN নম্বর, কর সার্কেল ও অঞ্চলের নাম লিখবেন। আয়ের ঘরগুলোতে "০" (শূন্য) বা "Nil" লিখে নিচে আপনার স্বাক্ষর দেবেন।
• জমা দেওয়া: ফরম দুটি পূরণ করে, সাথে জরিমানা মওকুফের লিখিত আবেদনপত্রটি পিন করে আপনার নির্দিষ্ট কর সার্কেল অফিসে সরাসরি গিয়ে জমা দিয়ে আসবেন।
কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করতে পারেন ✌️✅
Collected 

No comments:

Post a Comment